আমরা থাকি ঘরে করোনা যাক দূরে

আমরা থাকি ঘরে করোনা যাক দূরে

করোনার দিনগুলোতে কেমন আছেন?
এটা তো বৈশ্বিক মহামারি। অন্য সবার মতো আমারও এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। আমাদের এই বয়সের লোকের জন্য তো একটু উদ্বেগ থাকেই যে, কী হয় বা কী হচ্ছে! আমি ঘরেই আছি। গত ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঘর থেকে বের হইনি। এর আগে গত ১৫ মার্চ শুটিং ছিল। তারপর ২১ মার্চও শুটিংয়ের কাজ ছিল। কিন্তু এই কাজটা করোনার কারণে স্থগিত আছে, করা হয়নি। এখন ১৮ মার্চ থেকে রুমেই আছি। লেখালেখি করি, বই পড়ি, সিনেমা দেখি। ঘরেই হাঁটাহাঁটি করি।

এখন কী লিখছেন?
একটা উপন্যাস লিখছি ঈদ সংখ্যার জন্য। আরেকটা নাটক লেখার প্ল্যান আছে রেডিওর জন্য। এছাড়া আরেকটা মঞ্চ নাটক লিখব, দেখি আগামী মাসের ১৪ তারিখের (১৪ মে) মধ্যে শেষ করতে পারি কিনা। শুরু করেছি।

সম্প্রতি কোন কোন সিনেমা দেখেছেন?
সেদিন দেখলাম ‘ছেলে কার!’, ‘প্রশ্ন’, ‘বেলা শেষে’, ‘সোনার পাহাড়’; আজকে দেখলাম ‘রাইকমল’। যা পাচ্ছি, দেখছি। বাংলা ফিল্মই বেশি দেখি। ইংলিশ ফিল্ম খুব বেশি দেখি না।

বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সেগুলো কি যথেষ্ট বলে ভাবছেন?
কিছু পদক্ষেপ আমার মনে হয় একটু দেরি করে নেয়া হয়েছে। বলব যে, কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সরকার দ্বিধার মধ্যে আছে, আমার ধারণা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কারণ এই দেশের মানুষ সম্পর্কে তো আমরা জানি। তাদের বুঝাতে গেলে বুঝতেও টাইম লাগে, মানতেও চায় না; সুতরাং আমার মনে হয় আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমি মনে করি এখনো সময় আছে। এছাড়া এত পোশাককর্মী এই সময়ে বাড়ি থেকে ঢাকায় এলো, আবার গেল। এ রকম কিছু বিষয় একটু দৃষ্টিকটু লাগে আর-কি। এই সময় সবাই মিলে এক সঙ্গে চিন্তা-ভাবনা করে ডিসিশন নেয়া উচিত। যদি কঠিন শাসন করতে হয়, তাহলে কঠিন সাহায্য করা দরকার। এখানে তো কেউ কারো নিজস্ব বেনিফিটের জন্য কাছ করছেন না, জনগণের বেনিফিটের জন্য শাসন করা হচ্ছে। সুতরাং যতটা কঠোর হওয়া দরকার ততটা কঠোর হতে হবে বলে মনে করি আমি।

টিভি নাটকের গুণগত পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে বলে মনে করেন?
এখানে টেকনিক্যাল যে রকম উন্নতি হয়েছে, সে রকম কোয়ালিটির পতন হয়েছে প্রচণ্ড। বিশেষ করে প্যাকেজ ইন্ডাস্ট্রির কথা আমি বলব, এখানে কোয়ালিটির পতনটা মারাত্মক।

এর জন্য কোন বিষয়গুলো দায়ী বলে বিবেচনা হতে পারে?
বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। যেমন ডিরেক্টর ও প্রডিউসারদের এক ধরনের সিন্ডিকেট রয়েছে, সেগুলো ভাঙতে হবে। তারপর চ্যানেলগুলো প্রোগ্রাম চালানোর পরে মানুষের কাছ থেকে যেন প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক পায়; যেন টাকা পায়, তার ব্যবস্থা তাদের করতে হবে। কারণ টাকাটা নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এজেন্সি। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর মেকিংয়ের যে বিষয়টা, সেখানে ডিরেক্টরের হাত ভালো হলেই হবে না; বাজেটও লাগবে। সেজন্য নানান হাত ঘুরে আসার কারণে নাটকের বাজেটও কমে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবেই পতন হচ্ছে আর-কি।

বিটিভিতে আবারো ‘বহুব্রীহি’ ও ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটক প্রচার হচ্ছে, তা কতটুকু আনন্দের?
অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এগুলো তো আমাদের টেলিভিশনের ঐতিহ্যবাহী প্রডাকশন। পুনঃপ্রচার করা উচিত। নতুন প্রজন্ম দেখুক, কী ধরনের নাটক হতো আগে। এছাড়া প্যাকেজে আসার পরও ভালো ভালো কাজ হয়েছে, সেসব নাটকও দেখাতে পারে।

পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলেন?
আমরা থাকি ঘরে, করোনা যাক দূরে।

Post a Comment

[blogger][disqus][facebook][spotim]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget